বিভিন্ন কাজে আমাদের পাসপোর্ট দিয়ে মেডিকেল রিপোর্ট চেক করার প্রয়োজন পড়ে, বিশেষ করে বিদেশ গমনের ক্ষেত্রে। মেডিকেল রিপোর্ট চেক করার অনেকগুলা উপায় থাকলেও পাসপোর্ট দিয়ে মেডিকেল রিপোর্ট চেক করা তুলনামূক সহজ। বিদেশ গমন, চাকরি কিংবা পড়াশোনা প্রায় সব ক্ষেত্রেই মেডিকেল টেস্ট করা বাধ্যতামূলক। আমরা অনেকে বিদেশ গমনের জন্য মেডিকেল টেস্ট করি যেমন মালয়েশিয়া, সৌদি আরব, কুয়েত, দুবাই, ওমান অথবা অন্য কোন দেশের জন্য। মেডিকেল টেস্ট সাধারণত আমরা এজেন্সির মাধ্যমে করিয়ে থাকি। কিন্তু অনেক সময় দেখা যায় টেস্ট সম্পন্ন হওয়ার পরেও রিপোর্টের জন্য দীর্ঘদিন অপেক্ষায় থাকতে হয়। যেটি সত্যিই অনেক ধৈর্য ও সময় সাপেক্ষ ব্যাপার। তাই আজকের পোস্টে আমি এই সমস্যা থেকে উত্তরণের জন্য কিভাবে ঘরে বসে অনলাইনের মাধ্যমে, আপনার কাছে থাকা পাসপোর্ট দিয়ে মেডিকেল রিপোর্ট চেক করতে পারবেন সে প্রক্রিয়াটি দেখিয়ে দিব। তাহলে চলুন শুরু করি।
পাসপোর্ট দিয়ে মেডিকেল রিপোর্ট চেক ২০২৪
অনলাইনের মাধ্যমে পাসপোর্ট নাম্বার বা পাসপোর্ট দিয়ে মেডিকেল রিপোর্ট চেক করার জন্য আপনার ডিভাইসে ইন্টারনেট সংযোগ অন করে দিন। তারপর অপেরা, ক্রোম, ফায়ারফক্স বা যেকোন ব্রাউজারের এড্রেসবারে wafid.com লিখে ইন্টার চাপুন অথবা সরাসরি উক্ত ওয়েবসাইটে ঢুকতে এখানে ক্লিক করুন। তাহলে আপনি পাসপোর্ট দিয়ে মেডিকেল রিপোর্ট চেক করার ওয়েবসাইটে পৌঁছে যাবেন।
এখন View Medical Reports অপশনে ক্লিক করুন। আপনি নতুন আরেকটি পেইজে চলে আসবেন। এখন Passport number ও Nationality সিলেক্ট করে নিচে যদি ক্যাপচা কোড থাকে সেটি সঠিকভাবে বসিয়ে Check বাটনে ক্লিক করুন। আপনার দেওয়া তথ্যগুলো সঠিক থাকলে আপনি আপনার মেডিকেল রিপোর্ট দেখতে পারবেন।
এছাড়াও আপনি Wafid Slip Number দিয়েও মেডিকেল রিপোর্ট চেক করতে পারবেন। সেক্ষেত্রে Wafid Slip Number এ টিক চিহ্ন দিয়ে সিলেক্ট করুন। তার পর Check বাটনে ক্লিক করতে হবে।
ক্লিক করার সাথে সাথে আপনি আপনার মেডিকেল সম্পর্কিত সকল তথ্য পেয়ে যাবেন। অর্থাৎ আপনার নাম, বয়স, ঠিকানা সহ আপনি মেডিকেলে ফিট নাকি আনফিট ইত্যাদি তথ্য গুলো দেখতে পাবেন।
পাসপোর্ট দিয়ে মেডিকেল রিপোর্ট ডাউনলোড করার নিয়ম
এখন আপনি পাসপোর্ট দিয়ে মেডিকেল রিপোর্ট চেক করার পর যদি তথ্যটি ডাউনলোড করতে চান তাহলে আপনার ছবির ওপরে ডানপাশে থাকা PDF বাটনে ক্লিক করুন। আপনার মেডিকেল রিপোর্টটি PDF ফাইল হিসেবে ডাউনলোড হয়ে যাবে।
এই অবস্থায় আপনি চাইলে PDF কপিটি কম্পিউটার দোকান থেকে প্রিন্ট করে নিতে পারেন, অথবা কিছু দিন অপেক্ষা করুন। আপনার এজেন্সি বা যেখান থেকে মেডিকেল টেস্ট করিয়েছিলেন সেখান থেকে আপনাকে ফোন করে আপনার রিপোর্ট সম্পর্কে তারা জানিয়ে দেবে। নির্দিষ্ট তারিখে গিয়ে আপনি আপনার মেডিকেল রিপোর্টটি সংগ্রহ করতে পারবেন।
মেডিকেল রিপোর্ট সংক্রান্ত সচরাচর জিজ্ঞাসিত কিছু প্রশ্ন-উত্তর
প্রশ্নঃ বিদেশ যাওয়ার সময় যে মেডিকেল দিতে হয় সেখানে কি কি রোগ হলে মেডিকেটে আনফিট করে দেওয়া হয়?
উত্তরঃ মেডিকেলে যেসব রোগ থাকলে আনফিট করে দেয়া হয় সেগুলা হলঃ
- এইচআইভি
- চর্মরোগ খুব বেশি
- জন্ডিস
- হার্টের সমস্যা
- শ্বাসকষ্ট
প্রশ্নঃ বিদেশ গমের জন্য মেডিকেল রিপোর্ট কেন করা হয়?
উত্তরঃ আপনার কোন সংক্রামক ব্যাধি আছে কিনা যা আপনি সেই দেশে এসে ছড়াতে পারেন অথবা আপনি এমন কোন শারীরিক সমস্যায় আক্রান্ত কিনা যা সেই দেশে যে কাজে বা চাকরিতে যাচ্ছেন তাতে সমস্যা সৃষ্টি করবে – এসব জানতে। অনেক উন্নত দেশেই অসুস্থ ও বিকলাঙ্গ ব্যক্তির সব খরচ বহন করে – আপনি সেই সুযোগ নিতে যাচ্ছেন কিনা এসব জানতে মেডিকেল রিপোর্ট করা হয়।
প্রশ্নঃ মাওয়াএশিয়া যাব। বডি এক্স-রে করে মেডিকেল রিপোর্ট আনফিট এসেছে। এখন কি করবো, কোন ডাক্তার দেখাব?
উত্তরঃ প্রথমেই কোন বক্ষ বিশেষজ্ঞ (Chest specialist) ডাক্তারের পরামর্শ নিন। পরে ডাক্তারের পরামর্শ মত কাজ করুন। আশাকরি, ঠিক হয়ে যাবে।
প্রশ্নঃ বিদেশ গমনের জন্য মেডিকেল রিপোর্টের মেয়াদ কত মাস থাকে?
উত্তরঃ মেডিকেল চেকআপ করার পর মেয়াদ সর্বোচ্চ তিন মাস পর্যন্ত থাক। তিন মাসের মধ্যে মেডিকেল চেকআপ না করলে বাতিল হয়ে যায়। মেডিকেল চেকআপের রিপোর্ট জমা করলে তারপর আপনার ভিসা তৈরির অনুমতি পাবেন। মেডিকেল রিপোর্ট ভালো না থাকলে আপনি ভিসা পাবেন না।
প্রশ্নঃ মেডিকেল রিপোর্টের মেয়াদ কি বাড়ানো যায়?
উত্তরঃ হ্যা, মেডিকেল রিপোর্টের মেয়াদ বাড়ানো যাবে। তবে এটা নির্ভর করছে যে কোম্পানির হয়ে যাবেন, তাদের উপরে।
পাসপোর্ট দিয়ে মেডিকেল রিপোর্ট চেক করার জন্য যে কোন সমস্যার ক্ষেত্রে এই পোষ্টের নিচে কমেন্ট করতে পারেন। আমরা সর্বদা আপডেট তথ্য দেওয়ার চেষ্টা করি।