বর্তমান সময়ে ইন্টারনেটে ই-টিন সার্টিফিকেট প্রস্তুত করা অনেক সুবিধাজনক। আমাদের প্রাত্যহিক নানান কাজে ই-টিন সার্টিফিকেট প্রয়োজন হয়। অনেকে হয়তো ভাবছেন ই-টিন কি, এর প্রয়োজনীয়তা কার জন্য এবং কেন, ই-টিনের সঠিক ব্যবহার কী, এবং কোন কাজে এটি প্রয়োজন হয়, অনলাইনে ই-টিন সার্টিফিকেট প্রস্তুতের প্রক্রিয়া কি এবং এর জন্য কি কি ডকুমেন্টস দরকার ইত্যাদি। আজকের এই লেখায় আমরা ই-টিন সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য জানার চেষ্টা করব।
ই-টিন সার্টিফিকেট (E-TIN Certificate) কি
E-TIN হলো ইলেক্ট্রনিক ট্যাক্স আইডেন্টিফিকেশন নাম্বার (Electronic-Tax Identification Number), অর্থাৎ ব্যক্তিগত আয়কর নম্বর। এটি হলো আয়কর নিবন্ধনের নতুন সংস্করণ। বিশেষ কিছু ক্ষেত্রে প্রয়োজন হতে পারে টিন সার্টিফিকেট, যেমনঃ
- সরকারি সেবা
- আয়কর পরিশোধ
- ব্যাংকিং লোন
- জমি ক্রয়-বিক্রয়
- গাড়ির মালিক হতে গেলে
- ক্রেডিট বা ডেবিট কার্ড পেতে
- কোম্পানির শেয়ার ক্রয়
- পণ্য আমদানি বা রপ্তানি
- ফ্রিল্যান্সিং
- ব্যবসা প্রতিষ্ঠান নিবন্ধন ইত্যাদি
কাদের প্রয়োজন হয় ই-টিন সার্টিফিকেট (E-TIN)
সরকারি বা ব্যক্তিগত প্রতিষ্ঠানের সেবা প্রাপ্তি বা ব্যাংক হতে ঋণ গ্রহণের জন্য ই-টিন সার্টিফিকেটের অবশ্যকতা রয়েছে। এছাড়াও, সম্পত্তির কর পরিশোধের ক্ষেত্রে ই-টিন (E-TIN) আবশ্যক।
গাড়ি কেনা, ব্যাংকের ক্রেডিট বা ডেবিট কার্ড প্রাপ্তি, বিদেশ হতে পণ্য আমদানি বা রপ্তানি, শেয়ার বাজারে বিনিয়োগ, অনলাইন আয়, বা ব্যবসায়িক ট্রেড লাইসেন্স প্রাপ্তির মত বিশেষ ক্ষেত্রগুলিতে ই-টিন সার্টিফিকেটের প্রয়োজন পড়তে পারে।
অনলাইনে কিভাবে ই-টিন সার্টিফিকেট তৈরি করবেন
প্রথমে যেকোন ব্রাউজার থেকে চলে আসুন https://secure.incometax.gov.bd/TINHome এই ঠিকানায়। লিংকে ক্লিক করার পর আপনাকে সরাসরি ই-টিন (E-TIN) এর অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে নিয়ে আসা হবে। এখন সাইটের উপরের মেনুবার থেকে Register মেনুতে ক্লিক করুন। এই ওয়েবসাইটটি এখনো রেস্পন্সিভ না অর্থাৎ মোবাইল স্ক্রিনের জন্য উপযোগী করা হয়নি, তাই স্ক্রিনশট গুলা ডেস্কটপ ভিউ থেকেই নেওয়া হল।
১ম ধাপঃ অনলাইনে ই-টিন এর এই ধাপে আপনাকে ব্যক্তিগত প্রথমিক কিছু তথ্য দিতে হবে। যেমনঃ
- ইউজার আইডি
- পাসওয়ার্ড
- রিটাইপ পাসওয়ার্ড
- সিকিউরিটি কোশ্চেন
- সিকিউরিটি এনসার
- কান্ট্রি
- মোবাইল নাম্বার ও
- ইমেইল এড্রেস
সব গুলো তথ্য সঠিকভাবে দেওয়ার পর একটু নিচে গেলে একটি ক্যাপচা দেখতে পাবেন। ক্যাপচাটি সঠিকভাবে পূরণ করে Register বাটনে ক্লিক করুন।
২য় ধাপঃ মোবাইল একটিভেশন। এই ধাপে আপনার দেওয়া প্রদত্ত নাম্বারে ই-টিন (E-TIN) একটিভেশন করার জন্য একটি কোড পাঠানো হবে। কোডটি কপি করে একটিভেশন ঘরে বসিয়ে Active অপশনে ক্লিক করুন। আপনার কোডটি সঠিক থাকলে আপনার E-TIN একাউন্টটির রেজিষ্ট্রেশন সম্পন্ন হয়ে যাবে।
৩য় ধাপঃ এবার মেনুবার থেকে Login অপশনে ক্লিক করে আপনার ইউজার আইডি ও পাসওয়ার্ড দিয়ে লগিন করে নিন।
৪র্থ ধাপঃ এখন আপনাকে যেই পেইজজে নিয়ে আসা হবে সেখান থেকে একটু নিচে গেলে Click here একটি অপশন পাবেন, সেখানে ক্লিক করুন।
এ পর্যায়ে আপনাকে টিন সার্টিফিকেট রেজিস্টেশন করতে হবে। টিন সার্টিফিকেট রেজিস্টেশন করতে তাদের দেওয়া ফর্মটি সঠিকভাবে পূরণ করে নিন। ফর্ম পূরণের সময় অব্যশই NID ( জাতিয় পরিচয়পত্র ) তথ্য অনুযায়ী পূরণ করুন। কেননা আপনি জীবনে শুধু একবারই টিন সার্টিফিকেট তৈরি সুযোগ পাবেন। তাই অব্যশই কোন ধরণের জালিয়াতি বা ভুল তথ্য দেওয়ার চেষ্টা করবেন না। ভুল তথ্য দিলে আইনের ঝামেলায় পড়তে পারেন।
ফর্মে আপনি অনেকগুলো অপশন দেখতে পাবেন, যেগুলো প্রত্যেকটা সঠিকভাবে পূরণ করতে হবে যেমন:
- কর দাতার ধরণ
- রেজিস্টেশনের ধরণ
- আয়ের প্রধান উৎস
- লোকেশন
- ব্যবসার ধরন ও
- স্থায়ী ঠিকানা
উপরে প্রত্যেকটি অপশনে আপনার জন্য প্রযোজ্য অপশন গুলো সঠিকভাবে সিলেক্ট করা হয়ে গেলে Go to next বাটনে ক্লিক করুন।
৫ম ধাপঃ অনলাইনেই টিন সার্টিফিকেট তৈরি করতে এই ধাপে আপনার ব্যক্তিগত সকল বেসিক তথ্য NID অনুযায়ী পূরণ করতে হবে। সব মিলিয়ে যে যে তথ্য গুলো পূরণ করতে হবে তা হলোঃ-
- কর দাতার নাম
- NID নাম্বার
- কর দাতার লিঙ্গ
- জন্ম তারিখ
- পিতা-মাতার নাম
- স্বামী বা স্ত্রীর নাম
- ইমেইল
- এড্রেস
- মোবাইল নং
- বর্তমান ঠিকানা ইত্যাদি
সব গুলো তথ্য পূরণের পর Go to next বাটনে ক্লিক করুন।
৬ষ্ঠ ধাপঃ অনলাইনে ই-টিন সার্টিফিকেট তৈরির এই ধাপে আপনার দেওয়া সকল তথ্য আবারও একবার আপনার সামনে প্রদর্শিত হবে। সব তথ্য ভালো করে চেক করে নিন। কোথাও ভুল থাকলে ব্যাকে গিয়ে সংশোধন করে নিতে পারবেন। আর যদি সব তথ্য ঠিক থাকে তাহলে Submit Application বাটনে ক্লিক করুন।
আপনি যদি সঠিক তথ্য প্রদান করে থাকেন, তবে সব ইনফরমেশন জমা দেওয়ার পর NID এর ছবি আপনি দেখতে পাবেন। তার নিচে View Certificate অপশনে ক্লিক করলেই আপনার টিন সার্টিফিকেটটি প্রদর্শিত হবে।
এই ই-টিন সার্টিফিকেট দিয়ে এখন আপনি যেকোনো প্রকারের কাজ সম্পন্ন করতে পারবেন। আপনি এখন বুঝতে পারছেন যে কীভাবে সহজে ও দ্রুতগতিতে অনলাইনে ই-টিন সার্টিফিকেট প্রস্তুত করা যায়। টিন সার্টিফিকেট প্রস্তুত হওয়ার পর, প্রতিবছর ট্যাক্স রিটার্ন দাখিল করা আবশ্যক। রিটার্ন দুটি উপায়ে দাখিল করা যায় – একটি হলো সরাসরি আয়কর অফিসে গিয়ে, অপরটি অনলাইনে। টিন নিবন্ধন এর মানে হলো আপনি প্রতিবছর নির্ধারিত সময়ে আয়কর প্রদান করবেন।
ই-টিন সার্টিফিকেটের গুরুত্ব
ই-টিন সার্টিফিকেট হচ্ছে ইলেকট্রনিক ট্যাক্স আইডেন্টিফিকেশন নম্বর যা যেকোনো ব্যক্তি অথবা উদ্যোক্তাকে কর সংক্রান্ত আইনি বাধ্যবাধকতা পালন করতে সাহায্য করে। এটি বাংলাদেশে করদাতাদের জন্য অবশ্যক একটি ডকুমেন্ট যা ন্যাশনাল বোর্ড অফ রেভিনিউ (NBR) দ্বারা পরিচালিত হয়।
ই-টিন সার্টিফিকেটের গুরুত্ব অনেক বিষয়ে পরিলক্ষিত হয়। প্রথমত, এটি ব্যক্তিগত এবং বাণিজ্যিক উভয় ধরনের করদাতাদের কর পরিবর্তন ও অন্যান্য বিষয়ে আর্থিক লেনদেনে স্বচ্ছতা আনে। দ্বিতীয়ত, এই সার্টিফিকেট চাকরির বাজারে কর্মসংস্থানের সুযোগ প্রশস্ত করে কারণ অনেক সংস্থা ই-টিন নম্বর থাকা কর্মীদেরই পছন্দ করে থাকে। তৃতীয়ত, ই-টিন সার্টিফিকেট ব্যবসায়ীদের জন্য ব্যাংকের লোন পাওয়া এবং ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খুলতে অত্যাবশ্যকীয় একটি উপকরণ হিসেবে কাজ করে।
ই-টিন এর মাধ্যমে কর প্রদান এবং রিটার্ন জমা দেওয়ার প্রক্রিয়া অধিক সহজ এবং ঝামেলামুক্ত হয়, যা করদাতাদের সময় এবং অর্থ উভয়ই বাঁচায়। এই সার্টিফিকেটের মাধ্যমে সরকার দ্রুতগতিতে করের তথ্য প্রক্রিয়া করতে পারে এবং রাজস্ব হানি প্রতিরোধ করতে পারে। এছাড়াও, আধুনিক সমাজে ডিজিটাইজেশন এমন একটি যাত্রা যেখানে প্রত্যেকের জন্য ডিজিটাল নম্বর এবং অনলাইন পরিচিতি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ই-টিন করদাতারা অনলাইনে নিজেদের কর জমা দেওয়ার স্ট্যাটাস দেখতে পারেন এবং সহজেই তাদের আয়কর সম্পর্কিত যেকোনো তথ্য আপডেট করতে পারেন।
একজন ই-টিন সার্টিফিকেটধারী ব্যক্তি সরকারি সুবিধাসমূহ যেমন নিম্ন আয়ের ঘরবাড়ি, ভূমি ও বাণিজ্যিক লাইসেন্স প্রাপ্তিসহ বিভিন্ন সামাজিক ও আর্থিক সুবিধা পেতে পারেন। ই-টিন সার্টিফিকেটের মাধ্যমে একজন ব্যক্তি নিজের সামাজিক এবং আর্থিক অবস্থা প্রমাণ করতে পারেন যা তার জীবনের বিভিন্ন ধাপে আগে নিতে পারে।
ই-টিন সার্টিফিকেটের গুরুত্বপূর্ণতা শুধু এখানেই সীমাবদ্ধ নয়। রিয়েল এস্টেট ক্রয় অথবা যানবাহনের নিবন্ধনের মতো ব্যক্তিগত ও আর্থিক লেনদেনেও ই-টিন নম্বরের প্রয়োগান্বিত কল্পনা করা যায় না। সামগ্রিকভাবে, এই সার্টিফিকেট সমাজে অর্থনৈতিক শৃঙ্খলা এবং আইন মেনে চলার প্রবণতা বৃদ্ধি করে।
সর্বশেষে, সরকারের রাজস্ব সংগ্রহে ই-টিন নম্বরের গুরুত্ব অনস্বীকার্য। করের ন্যায্য হার নিশ্চিত করার মাধ্যমে এটি জাতীয় বাজেটের টেকসই উন্নয়নে অবদান রাখে।
এরকম আরোও গুরুত্বপূর্ণ পোস্ট পেতে চোখ রাখুন আমাদের Cyber Sheba ওয়েবসাইটে, ধন্যবাদ।
4 Responses
ভাই, টিন সার্টিফিকেট করার ক্ষেত্রে Purpose of TIN এই অপশনটি পরিষ্কার করে বলেন। এটি নতুন অপশন যুক্ত হয়েছে।
এটার অর্থ হল আপনি কোন উদ্দেশ্যে টিন সাবমিট করতেছেন? যদি ব্যবসার জন্য হয় তাহলে লিখতে পারেন for business purpose only.
My email address not publish
Hi Mr. Alam, actually what is your question?